দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের পক্ষ থেকে এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী ভাষণ দিয়েছেন। এই সম্মেলনটি আফ্রিকার মাটিতে প্রথম জি-২০ আয়োজন এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে টানা চতুর্থ বছর সভাপতিত্বের ধারা বজায় রাখার কারণে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। মোদী তাঁর ভাষণে বারবার ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’-এর ভারতীয় দর্শনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেন এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় ভারতকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এমন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যখন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বৈত আঘাত উন্নয়নশীল, বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের দেশগুলির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। তাই শুধু জি-২০ সদস্য দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয় করলেই চলবে না, বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন, যাতে তারা উন্নয়নশীল দেশগুলির ঋণ সংকট মোকাবিলায় আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।
এছাড়া এদিন তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিতে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে, কিন্তু এর ব্যবহার যেন দায়িত্বশীল ও নৈতিক হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার , যেমন ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস এবং আধার-এর মতো ব্যবস্থাগুলিকে তিনি বিশ্বের সামনে একটি মডেল হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই ডিজিটাল মডেলগুলি অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করে বৈষম্য দূর করতে পারে।
তাছাড়া তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে ২০২৩ সালে ভারতের সভাপতিত্বের সময়েই আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০-এর স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যা বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আফ্রিকার এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের গভীর অঙ্গীকারের প্রতীক।
















Leave a Reply