NEWS UPDATE TRIPURA

নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনই আমাদের লক্ষ

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষ যেন সুলভ ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পান

Spread the love

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সমাজের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় রাজ্যের রোগীদের মধ্যে বাইরে যাবার প্রবণতাও আগের থেকে অনেক হ্রাস পেয়েছে। আজ প্রজ্ঞা ভবনে ভারতের অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট উত্তর-পূর্বাঞ্চল শাখার ৩৬তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশন অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস উত্তর পূর্ব শাখা সংগঠনটি উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্যের ইএনটি সার্জনদের নিয়ে গঠিত। এই সংগঠন ১৯৮৫ সালে গঠিত হয়। গত বছর এটি আসামের শিবসাগরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ত্রিপুরায় এই সংগঠনের সর্বশেষ সম্মেলন ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১১ বছর পর রাজ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টটি আবারও হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধুমাত্র একটি পেশায় নয়, এটি মানবতার এক মহান সেবা। আর সেই সেবার মধ্যে ইএনটি চিকিৎসকদের ভূমিকা অনন্য। কান, নাক ও গলার রোগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিশু থেকে প্রবীন প্রত্যেকের জীবনে কখনো না কখনো ইএনটি চিকিৎসকদের প্রয়োজন হয়। বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, মাইক্রো সার্জারি, লেজার টেকনোলজি ও রোবোটিক সার্জারির মতো উদ্ভাবনী চিকিৎসা ব্যবস্থা ইএনটি চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

তিনি বলেন, এই বছর এই সম্মেলনে বিশিষ্ট ইএনটি সার্জন এবং জাতীয় স্তরের রিসোর্স পার্সনরা অংশগ্রহণ করছেন যারা তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করবেন যা রাজ্যের পাশাপাশি সমগ্র উত্তর পূর্ব অঞ্চলের ইএনটি সার্জনদের জ্ঞান এবং দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসদের মধ্যে নতুন জ্ঞান, গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আদান প্রদান হবে, যা আগামীদিনে রাজা তথা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যেন সুলভ ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পান। আর চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠা ছাড়া এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড জিবিপি হাসপাতাল সহ সারা রাজোর চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির লক্ষ্যে গত ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ নয়াদিল্লীতে এইমস এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড জিবিপি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৭২৭ থেকে বাড়িয়ে ১৪১৩ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ.জি.এম.সি ও জি.বি.পি. হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ সেন্টার এবং দুটি স্পেশাল ওয়ার্ড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও মণিপুরের শিজা হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানচিত্রে নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যেই এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল শল্য চিকিৎসা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যে লিভার এবং হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট সহ অঙ্গদান এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য উদ্যোগ জারী রয়েছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে রোগীর সহকারীদের ১০ টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার প্রদান, ভারত মাতা ক্যান্টিন ও নাইট শেল্টার স্থাপনের উদ্যোগ, চিকিৎসকদের স্নাতকোত্তর স্তরে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা, আগরতলা গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজের পরিকাঠামো বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলেজে লেজার ট্রিটমেন্ট ও থ্রিডি প্রিন্টিং ল্যাব চালু বিডিএস পঠনপাঠন কোর্সে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন জেলায় ট্রমাকেয়ার স্থাপন ইত্যাদি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য সফল কর্মসূচির কথা মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির ফলস্বরূপ রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার সহ মাতৃকালীন সময় মৃত্যুও অনেক হ্রাস পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু আগরতলা নয়, রাজ্য সরকার জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিষেবাকে সম্প্রসারিত করছে। এ.জি.এম.সি. ও জি.বি.পি. হাসপাতালে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিভাগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা পরিষেবার জন্য আগরতলায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট টার্শিয়ারি আই কেয়ার হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সম্মেলন শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি এই সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, আজকের অনুষ্ঠানে তিনজন ই এন টি চিকিৎসককে তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে স্মারক উপহার সহ শংসাপত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের অর্গানাইজিং প্রেসিডেন্ট ডাঃ শঙ্কর চক্রবর্তী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো, প্রফেসর ডাঃ বিরাজ দাস, ডাঃ অঞ্জন জ্যোতি ভূইয়া, ডাঃ শুভময় চক্রবর্তী প্রমুখ। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডাঃ বিধান দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, মেডিক্যাল এডুকেশন দপ্তরের অধিকর্তা প্রফেসর ডাঃ এইচ পি শর্মা, ডাঃ অঞ্জন দাস প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *